পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সফল তদন্তে POCSO মামলায় অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১১ বছর বয়সী নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করার বিচার পেল ।গত ১২ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে নন্দকুমার থানার অন্তর্গত রাজরামপুর গ্রামের এক মর্মান্তিক ঘটনার …
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সফল তদন্তে POCSO মামলায় অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১১ বছর বয়সী নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করার বিচার পেল ।
গত ১২ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে নন্দকুমার থানার অন্তর্গত রাজরামপুর গ্রামের এক মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগকারিণীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন বিকেল প্রায় ৪টা ৩০ মিনিট নাগাদ তাঁর ১১ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যা প্রতিবেশী নন্দন তুমকি -র বাড়িতে থাকাকালীন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে অভিযোগকারিণী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নন্দকুমার থানার পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টির তদন্ত শুরু করে। পরদিন, অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নন্দকুমার থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার প্রথম তদন্তকারী আধিকারিক সাব-ইন্সপেক্টর অমিত প্রামাণিক তদন্তের সূচনা করেন। পরবর্তীকালে দ্বিতীয় তদন্তকারী আধিকারিক সাব-ইন্সপেক্টর দেবাশিস বাগ তদন্তভার গ্রহণ করে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা, বৈজ্ঞানিক তদন্ত এবং শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ সফলভাবে প্রমাণিত হয়।
মামলাটির বিচারপর্বে পাবলিক প্রসিকিউটর শ্রীমতী অস্মিতা দাস খানরা রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মামলাটি উপস্থাপন করেন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুরের এক্সক্লুসিভ POCSO কোর্ট (Exclusive POCSO Court, Tamluk, Purba Medinipur) মামলার সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথি ও যুক্তি-বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত নন্দন তুমকি কে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ₹৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার টাকা) জরিমানার আদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে, নির্যাতিতা নাবালিকার পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষ্যে Victim Compensation Scheme-এর অধীনে ₹৪,০০,০০০ (চার লক্ষ টাকা) ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশও দেন।

No comments