বিজেপি করার অপরাধে’ ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারিয়েছিলেন গণেশচন্দ্র মণ্ডল, আজও মেলেনি আবাস, শৌচাগার কিংবা সরকারি সহায়তা—অসহায় পরিবারের আর্তি।* ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানোর বহু বছর পরেও সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছে এ…
বিজেপি করার অপরাধে’ ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারিয়েছিলেন গণেশচন্দ্র মণ্ডল, আজও মেলেনি আবাস, শৌচাগার কিংবা সরকারি সহায়তা—অসহায় পরিবারের আর্তি।* ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানোর বহু বছর পরেও সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছে এক অসহায় পরিবার। অভিযোগ, বিজেপি করার কারণেই প্রাণ দিতে হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা-২ নম্বর ব্লকের উত্তর কাঁথি বিধানসভার বাথুয়াড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের অস্তিচক গ্রামের বাসিন্দা বছর পঁয়তাল্লিশের গণেশচন্দ্র মণ্ডলকে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও আজও তারা ন্যায়বিচার ও প্রাপ্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোট-পরবর্তী অশান্তির সময় তৎকালীন তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর আহত হন গণেশচন্দ্র মণ্ডল। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এগরা থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলেও, পরিবারের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত সেই মামলায় তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিচার পায়নি।
গণেশচন্দ্র মণ্ডলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তাঁর মৃত্যুর পর চার কন্যাকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবার। বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এই পরিবার অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আজও একটি জরাজীর্ণ চালাঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে তাঁদের। পরিবারের দাবি, বহুবার স্থানীয় বাথুয়াড়ী গ্রাম পঞ্চায়েত এবং এগরা-২ নম্বর ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও এখনও পর্যন্ত আবাস যোজনার ঘর বা একটি শৌচাগার পর্যন্ত পাননি।
পরিবারের সদস্যদের কথায়, সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও বাস্তবে কোনো সাহায্য মেলেনি। ফলে প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যেই জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। এখন তাঁদের একটাই প্রশ্ন—কবে মিলবে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা এবং ন্যূনতম সরকারি সহায়তা?
এদিকে পরিবারের দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, বিজেপি করার কারণে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে ‘সংগ্রামী ভাতা’ দেওয়া হবে। গণেশচন্দ্র মণ্ডলের পরিবারও সেই সহায়তার আশায় রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো আর্থিক অনুদান বা সরকারি সহায়তা তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ।
ন্যায়বিচার, আবাসন এবং সরকারি সহায়তার দাবিতে আজও অপেক্ষার প্রহর গুনছে গণেশচন্দ্র মণ্ডলের গোটা পরিবার। তাঁদের প্রশ্ন, কবে শেষ হবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা? কবে মিলবে প্রশাসনের দৃষ্টি ও প্রাপ্য সরকারি সুবিধা? সেই উত্তরই খুঁজছে অসহায় পরিবারটি।

No comments