তৃণমূলের ভাঙ্গনের পর এই প্রথম জেলা পরিষদ দখল করল বিজেপি ।পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ দখল নিল গেরুয়া শিবির , একথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী ।পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন বিজেপির বামদেব গু…
তৃণমূলের ভাঙ্গনের পর এই প্রথম জেলা পরিষদ দখল করল বিজেপি ।পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ দখল নিল গেরুয়া শিবির , একথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী ।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন বিজেপির বামদেব গুচ্ছাইত (গুছাইত)। একই সঙ্গে নতুন সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাঁশুরি পন্ডিত।পাশের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো পদাধিকার।আতসবাজি আর ঢাক-ঢোলের আওয়াজে বিজয় উৎসবে মাতেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।বামদেব গুছাইতকে সম্বর্ধনা দেওয়ার জন্য রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায় জেলা পরিষদে ।সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের হাততালির মাধ্যমে সবাধিপতি নির্বাচিত হন ।উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেন , "জেলায় নিদর্শন তৈরি হলো ও অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেল। এর জন্য সাফল্য কারুর নয় ,রাজ্যে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি, সকলের আস্থা জ্ঞাপন করেছেন ।জেলায় উন্নয়নের স্বার্থে এগিয়ে যেতে হবে ।জেলায় প্রতিনিধি হিসেবে আমার নাম আশায় ,কোন সদস্যই বিরোধিতা করেননি । জেলা জুড়ে পরিষেবা দেওয়ার জন্য তিনটে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হবে ।"
প্রসঙ্গত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর নৈতিক বিপর্যয়ের দায় নিয়ে সম্প্রতি জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের উত্তমকুমার বারিক। ইস্তফা দেন সহ-সভাধিপতি সুহাসিনী কর-ও। এরপরই সোমবার নতুন বোর্ড গঠনের জন্য সাধারণ সভা ডাকা হয়। সেখানেই ঘটে এই ঐতিহাসিক ক্ষমতার বদল।
সোমবারে বিশেষ সাধারণ সভায় নাটকীয়ভাবে কোনো ভোটাভুটি ছাড়াই সর্বসম্মতিতে নতুন সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুচ্ছাইতের নাম সভাধিপতি পদের জন্য উত্থাপন করেন জয়দেব মিদ্যা। সভায় উপস্থিত সমস্ত সদস্যই এই প্রস্তাব সমর্থন করেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার পূর্ব মেদিনীপুরেও ঘটল ঐতিহাসিক ক্ষমতার হস্তান্তর। দীর্ঘ কয়েক দশকের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি।
এক নজরে জেলা পরিষদের অংক
মোট আসন: ৭০
দলীয় বিন্যাস: তৃণমূল ৫৬, বিজেপি ১৪ (২ জন সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমান আসন সংখ্যা ৬৮)
সভায় উপস্থিতি: ৬৪ জন সদস্য
সর্বসম্মতিভাবে প্রস্তাব পাস ।

No comments