হলদিয়া সংবাদপত্র :: দীপক পন্ডা --লক্ষ্যা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীর্ঘ ৩৪ বছরের কিছু বেশি শিক্ষকতার কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেন ।মহিষাদলের লক্ষ্যা হাইস্কুল একটি দৃষ্টিনন্দন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ পাহাড়…
হলদিয়া সংবাদপত্র :: দীপক পন্ডা --লক্ষ্যা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীর্ঘ ৩৪ বছরের কিছু বেশি শিক্ষকতার কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেন ।মহিষাদলের লক্ষ্যা হাইস্কুল একটি দৃষ্টিনন্দন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ পাহাড়ি কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেন । স্কুলের সামনে পুকুরের পাড়ে সম্প্রতি ফেস আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলেই অভিভাবকের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পৌঁছে যায়। একইভাবে, বিদ্যালয় ত্যাগের সময়ও অভিভাবকদের কাছে অনুরূপ বার্তা প্রেরিত হয়। কক্ষসজ্জা, দেওয়ালচিত্রসহ প্রতিটি অংশই সুনিপুণ ও নান্দনিক। প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ পাহাড়ি তাঁর অসামান্য মেধা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই বিদ্যালয়কে বর্তমান রূপ দান করেছেন। তিনি গত আঠারো বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে আসছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী আবেগাপ্লুত। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দও তাঁকে গভীরভাবে স্মরণ করলেন।
৬০ বছরের এই জীবন পরিক্রমায় প্রথম ২৫ বছর প্রথাগত ছাত্র; পরে এক বছরের কর্পোরেট জগতে কাজ , তার পরের ৩৪ বছরের দুটো ভাগ --- সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক --- এইভাবে পরিক্রমা শেষ করলেন । শিক্ষক সত্ত্বা এবং শিক্ষকতার বাইরে সামাজিক মানুষ ছিলেন দেবাশীষ পাহাড়ি । তিনি বলেন ,মানুষের পাশে থেকে কাজ করার যে অনাবিল আনন্দ আছে সেটা আমি বুঝতে শিখেছি ---" দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ " এর মর্ম বাণী উপলব্ধি করে মেনে চলার চেষ্টা করেছি সব সময়। বহু হাজার ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে যে ভালোবাসা , যে শ্রদ্ধা আমি পেয়েছি তা আমার কাছে সম্পদ। প্রধান শিক্ষকের গম্ভীর গণ্ডিতে আটকে থাকতে পারিনি --- যে কারণে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা অকপটে এবং সরল বিশ্বাসে তাদের ভাবনা তাদের অনুযোগ অভিযোগ আনন্দ উচ্ছ্বাস উদ্বেগের জায়গা আমার কাছে বলতে কখনো দ্বিধা করেনি ।
লক্ষ্যা গ্রামের বিদ্যোৎসাহী জমিদার মাইতি পরিবারের উদার অর্থানুকূল্যে ১৮৮০ সালে মাত্র ৫ জন বিদ্যার্থী নিয়ে যে বিদ্যালয়ের শুভ সূচনা হয়েছিল , সেদিনের সেই বীজ আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের কথায় ,আজ আমার প্রিয় মন্দির থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিলাম । যদি কিছু করে থাকতে পারি, যদি সামান্য দাগ কেটে থাকতে পারি তবে সেক্ষেত্রে আমার ভূমিকা যতই নগণ্য ততই উজ্জ্বল ।

No comments