চাকরি দেওয়ার নামে বহু বেকারের কাছ থেকে কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক শ্রমিককে গ্রেফতার করল সুতাহাটা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম দ্বীপ শেখর প্যাটেল, বাড়ি সুতাহাটা থানার হাদিয়া এলাকায়। জানা যায়, এক বিধায়কের নাতি সম্পর্কে হন প্রতারক দ্ব…
চাকরি দেওয়ার নামে বহু বেকারের কাছ থেকে কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক শ্রমিককে গ্রেফতার করল সুতাহাটা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম দ্বীপ শেখর প্যাটেল, বাড়ি সুতাহাটা থানার হাদিয়া এলাকায়। জানা যায়, এক বিধায়কের নাতি সম্পর্কে হন প্রতারক দ্বীপ শেখর ।
অভিযোগ, হলদিয়ার দূর্গাচক থানা এলাকার একটি কারখানায় (এজিস) চাকরি দেওয়ার নাম করে বহু বেকার কর্মপ্রার্থীর কাছ থেকে বহু টাকা নিয়েছিল। প্রসঙ্গত, দ্বীপশেখর নিজেও ঐ কারখানার শ্রমিক ছিল। ঠিক মত ডিউটি না করায় সম্প্রতি কোম্পানি সাসপেন্ড করেছে।
এক অভিযোগকারী প্রতারিত মিলন জানান, তাঁর পরিবারের দু’জন সদস্য চাকরির আশায় ৪ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। বিনিময়ে তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট কোং (এজিস) থেকে চাকরিতে যোগদানের জন্য ই-মেলও এসেছিল। কিন্তু প্রতিবার যোগদানের নির্ধারিত দিনের আগে আবার জানানো হত যে কোম্পানির কোনও সমস্যার কারণে যোগদান স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরে জয়েন্ট লেটার মেলে পাঠানো হবে।
এভাবে প্রতারক দ্বীপ শেখরের কথা অনুযায়ী ,টাকার বিনিময়ে বহু কর্মপ্রার্থী সম্প্রতি ১২ জুন জয়ন্টের আশায় ছিল। এবারও অনেকেই ১২ জুন যোগদানের জন্য প্রস্তুত হয়েছিল। কিন্তু ১২ জুন সকালে দ্বীপশেখর প্যাটেল হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানায়, যে ঐ নির্দিষ্ট কোং (এজিস) এর এক অফিসার, চাকরি দেওয়ার টাকাগুলো খেয়ে নিয়েছে । এখন সমস্ত টাকার কথা অস্বীকার করছে। দ্বীপ শেখর হতাস কর্মপ্রার্থীদের জানায়, এমনকি প্রায় ২বছর ধরে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল এবং কোম্পানির ঐ অফিসারকে সব টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই অফিসার সবই অস্বীকার করছে ও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে ।এমন কথা জানায়।
জানা যায়, এক নুতন নাটকের কথা বলে দ্বীপ শেখর গা ঢাকা দেয়। তারপর চাকরি প্রার্থীদের সাথে আর প্রতারক দ্বীপ শেখরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে নি।
এক প্রতারিত চাকুরী প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা এবং তাঁর প্রতিবেশীর কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। এক বছর ধরে নানা বাহানায় দিয়ে চলছে।তিনি আরও দাবি করেন, ওই কারখানার এক ঠিকা শ্রমিক মানিক সাউয়ের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল।
এই ঘটনায়, ময়নার বাসিন্দা জগদীশ দাস গত ২৯ মে দুর্গাচক থানায় দেবাশীষের বিরুদ্ধে এক অভিযোগ দায়ের করেন। দ্বীপশেখর টোপ দিয়েছিল, ম্যানেজমেন্ট কোটায় কর্মী নিয়োগ করা হবে। সেখানে আইটিআই পাশ প্রার্থীদের জন্য ৩ লক্ষ, ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সাড়ে ৩ লক্ষ এবং বিটেক পাশদের জন্য ৪ লক্ষ টাকা লাগবে। সেইমত অনেকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী টাকা দিয়েছিল।
প্রতারিত জগদীস দাস বলেন, “আমি আইটিআই পাশ করেছিলাম। আমার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। চাকরি না হলে সুদ-সহ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। একাধিকবার আশার ই-মেল এলেও প্রতিবারই যোগদানের আগে নানা অজুহাতে তা পিছিয়ে দেওয়া হত।”
হলদিয়া দূর্গাচক এজিস কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, কোম্পানির নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও ই-মেল তৈরি করে দ্বীপশেখর প্রতারণা চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাইবার ক্রাইমে প্রতারণার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। হায়দ্রাবাদের এক সংস্থা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও ই-মেলের তদন্ত শুরু করেছে ।
এইভাবে বেশ কিছুদিন প্রতারক দীপ শেখর প্যাটেল গা ঢাকা দিয়ে চলছিল ।কর্ম প্রার্থীরা নানা জায়গায় অভিযোগ জানানোর পর এবং থানায় অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলে,তদন্তের সমস্ত সত্য উঠে আসবে ।

No comments