পালাবদলে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একাধিপত্যের অবসান ঘটতে চলেছে ।রাজ্যে পালাবদলের আবহে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। স্কুল পরিচালন কমিটি বা স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (SMC) গঠনে একগুচ্ছ নতুন নির…
পালাবদলে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একাধিপত্যের অবসান ঘটতে চলেছে ।রাজ্যে পালাবদলের আবহে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। স্কুল পরিচালন কমিটি বা স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (SMC) গঠনে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রের শিক্ষা দপ্তর। সূত্রের খবর, এবার থেকে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একাধিপত্যের অবসান ঘটতে চলেছে। বদলে কমিটির রাশ থাকবে সরাসরি পড়ুয়াদের অভিভাবকদের হাতেই। এরাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার শপথ নিয়ে কেন্দ্রের গাইডলাইন অনুযায়ীই স্কুল পরিচালন কমিটি তৈরী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।বিগত সরকারের আমলে স্কুল পরিচালন কমিটির কাঠামো নিয়ে বারবার বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। নিয়ম ছিল, কমিটির সভাপতি হবেন সরকারের মনোনীত কোনও ব্যক্তি, যার নেপথ্যে থাকত প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক মদত। প্রধান শিক্ষক এবং দুই সরকারি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নামমাত্র দু’জন অভিভাবক প্রতিনিধি বেছে নেওয়া হত। ফলে স্কুল পরিচালনার নীতি নির্ধারণে অভিভাবকদের কার্যত কোনও ভূমিকাই থাকত না।কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করেই এবার সেই ব্যবস্থায় বদল আনা হচ্ছে। নতুন নিয়মে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্কুল কমিটির মাথায় আর কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি বসতে পারবেন না।
কমিটির নতুন কাঠামো: একনজরে-----
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে কমিটির সদস্য সংখ্যা। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে লিঙ্গসাম্য এবং অভিভাবক কেন্দ্রিক প্রশাসনকে।
সদস্য বিন্যাস:
১০০ জন শিক্ষার্থী: ১২ থেকে ১৫ জন সদস্য।
১০০ থেকে ৫০০ জন শিক্ষার্থী: ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য।
৫০০-র বেশি শিক্ষার্থী: ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য।
মহিলাদের প্রাধান্য: কমিটির মোট সদস্যের ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের
অভিভাবকদের ক্ষমতা: কমিটির মোট সদস্যের ৭৫ শতাংশই আসতে হবে অভিভাবকদের মধ্য থেকে। এমনকি, কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদ দু’টিও সংরক্ষিত থাকবে অভিভাবক প্রতিনিধিদের জন্যই।
বাকি ২৫ শতাংশ কারা ---
কমিটির বাকি এক চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ সদস্য নির্বাচিত হবেন বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে। যার মধ্যে থাকবেন:
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা মনোনীত সদস্য।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি।
স্থানীয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সহ অন্যরা।
পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা।
লক্ষ্মণীয় বিষয় : এবার আর শিক্ষা কর্মী প্রতিনিধিদের এই কমিটিতে জায়গা হয়নি।
এই নতুন নিয়ম কার্যকরী হতে চলেছে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে।

No comments