মহিষাদলে যেন খাপ পঞ্চায়েত! বাড়িতে কোন মাঙ্গলিক কিংবা অশৌচ অনুষ্ঠানের আগে গ্রাম কমিটি কে নিয়ে বসে আলোচনা করতে হবে। কারও বাড়ির নিয়ে পালিয়ে গেলে কিংবা বিয়ে করে বউ নিয়ে এলে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাম কমিটি কে চাঁদা দিতে হবে। এম…
মহিষাদলে যেন খাপ পঞ্চায়েত! বাড়িতে কোন মাঙ্গলিক কিংবা অশৌচ অনুষ্ঠানের আগে গ্রাম কমিটি কে নিয়ে বসে আলোচনা করতে হবে। কারও বাড়ির নিয়ে পালিয়ে গেলে কিংবা বিয়ে করে বউ নিয়ে এলে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাম কমিটি কে চাঁদা দিতে হবে। এমনকি গ্রামে কোথাও মুসলমানদের জায়গা বিক্রয় করা যাবেনা। এরকম ই ১২ ডফা ফতোয়া জারি করার অভিযোগ উঠেছে গ্রাম কমিটির বিরুদ্ধে। ভিন রাজ্য নয়, নন্দীগ্রামের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল ব্লকের চক দ্বারিবেড়া গ্রামের ঘটনা। যেখানে প্রশাসনকে উপেক্ষা করে সমান্তরালভাবে খাপ পঞ্চায়েত চালানোর চেষ্টার ঘটনায় সরব হয়েছে বিজেপি।চক দ্বারিবেড়া গ্রামের ভিডিওটি ক্লিক করে দেখে নেন
স্হানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে- কয়েকদিন ধরে মহিষাদলের লক্ষ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চকদ্বারিবেড়া গ্রামে বন্ধ খামের ভেতর একটি লিফলেট করা হচ্ছে। গ্রাম কমিটির তরফে ওই লিফলেট বিলি করা হচ্ছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের একাংশের। ওই লিফলেটে দাবি করা হয়েছে-গ্রাম্য সাধারণ সভায় বাড়ি পিছু প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক। অন্যথায় কুড়ি টাকা জরিমানা দিতে হবে। পারিবারিক বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো বিবাদ হলে তাও গ্রাম কমিটির নজরে আনতে হবে। পরিবারের মাঙ্গলিক কিংবা অশৌচ অনুষ্ঠানের আগে গ্রাম কমিটির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এরকম একাধিক ফতোয়া জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
২০১৯ সালে মহিষাদলের এই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল দখল করেছে। ১৩ টি আসনের মধ্যে দশটি তে জয়ী হয় শাসক দল। বাকি তিনটিতে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। চকদ্বারিবেড়া তেও তিনশো ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল বিজেপির স্বপন দাস। তিনি বলেন,"গ্রাম কমিটির সম্পাদক এবং সভাপতি বাড়ি বাড়ি এই লিফলেট পৌঁছে দিচ্ছেন বলে এলাকার মানুষজন বলে গিয়েছেন। প্রশাসনকে বাদ রেখে গ্রাম চালানো র চেষ্টা করছে শাসক দলের লোকজন"। নির্বাচিত পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পাশাপাশি ওই গ্রামে সম্প্রতি একটি কমিটি তৈরি করেছিলেন স্থানীয়রা সকলে মিলে। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে গ্রাম কমিটির একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই নতুন ফতোয়া জারি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় লিফলেটে দাবি করা হয়েছে। যে কমিটির সম্পাদক হচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা প্রণব দাস। যদিও বিতর্ক শুরু হতেই সম্পূর্ণ দায় অস্বীকার করেছেন ওই তৃণমূল নেতা। এ ধরনের ফতোয়া জারি করা লিফলেট প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা প্রণব দাস বলছেন,"লিফলেটে কোথাও সম্পাদক কিংবা সভাপতির নাম উল্লেখ করা ছিল না। নাকার জনক এই ঘটনার সর্বস্তরে ধিক্কার জানাই। এ বিষয়ে আমরা পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ জানিয়েছি"। অভিযোগ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের পূর্ণেন্দু মাজী বলেন," বিজেপির তরফ সে কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কিনা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি"। এধরনের ফতোয়া করা কতটা প্রাসঙ্গিক, সে প্রসঙ্গে মহিষাদল ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক তিলক চক্রবর্তীর দাবি,"
পরে টনক নড়েছে প্রশাসনের অভিযান চালিয়ে ৫ জন সদস্য কে মহিষাদল বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা যাচ্ছে ওদের নাম যথাক্রমে ১) শঙ্কর ঘোড়াই ২) সুভাষ ঘোড়াই ৩)তারক দাস ৪) বাপি সাউ ৫) প্রণব দাস (কমিটির সম্পাদক)

No comments