হলদিয়ায় বেসরকারি সংস্থায় চাকরি নিয়ে শিল্পশহর হলদিয়া বনাম নন্দীগ্রাম তরজায় সরগরম সামাজিক মাধ্যমে ।হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ জোরালো প্রভাব ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়া ভুবনে। কর্মসংস্থান পাওয়ার প্রশ্নে হ…
হলদিয়ায় বেসরকারি সংস্থায় চাকরি নিয়ে শিল্পশহর হলদিয়া বনাম নন্দীগ্রাম তরজায় সরগরম সামাজিক মাধ্যমে ।হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ জোরালো প্রভাব ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়া ভুবনে। কর্মসংস্থান পাওয়ার প্রশ্নে হলদি নদীর দুই পাড়ে আমরা-ওরা বিভাজন রেখা। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ জুড়েই জেলা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পক্ষে ও বিপক্ষে মতামতের বন্যা। গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বিষয় নিয়ে হলদিয়া ও নন্দীগ্রামের মধ্যে রেষারেষি এভাবে লক্ষ্য করা যায় নি। সেদিক থেকে এই ইস্যুতে জেলা প্রশাসন বিড়ম্বনায় পড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অমিত সামন্ত লিখেছেন, 'নন্দীগ্রামে উপ-নির্বাচন আছে। তাই এই সিদ্ধান্ত। এটা জলের মতো পরিষ্কার।' রাজশেখর মান্না ক্ষোভের সুরেই পোস্ট করেছেন, 'আমরা কী ঘাস কাটব?'সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হলদিয়ার অতনু দাস লিখেছেন, 'হলদিয়া বিধানসভায় ভোট দিয়ে আমরা বিজেপিক জিতিয়েছি। পার্টি করতে গিয়ে পতাকা ধরব আমরা। মার খাব আমরা। কর্মসংস্থানের বেলায় নন্দীগ্রামের মানুষকে সুযোগ। মুখ্যমন্ত্রী সেখানকার প্রাক্তন বিধায়ক বলে এনিয়ে চুপ থাকতে হবে?' সমীর মন্ডল লিখেছেন, 'হলদিয়ার যুবকদের একটা কাজ পেতে ইউনিয়নের সঙ্গে অনেক লড়াই করতে হয়। অথচ, বাইরের ছেলেদের জন্য চাকরির দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। লড়াই, সংগ্রাম ছাড়া তাঁরা অনায়াসে চাকরি পেতে চলেছেন।'
হলদিয়ার দিক থেকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করে পোস্ট করা হলেও নন্দীগ্রামবাসীও ছেড়ে কথা বলছেন না। তরুণ কান্তি দাস লিখেছেন, 'কয়েক বছর ধরে নন্দীগ্রামের মানুষ খুব অবহেলায় ছিল। এই সুযোগ পাওয়াটা ন্যায্য।' অস্বস্তিতে প্রশাসন প্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিংয়ে বসেছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার ।
নন্দীগ্রামের শীতল মন্ডল পোস্ট, '২০২১ সালে পরিবর্তনের বীজ বুনে দিয়েছিল নন্দীগ্রামই। রাজ্যে বিজেপি সরকারের সম্ভাবনা জাগিয়েছে নন্দীগ্রামই। তাই প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত সঠিক।' সুজলকুমার দাস লিখেছেন, 'ঘন অন্ধকারের মধ্যে আলোর উৎস। এতে আশার সঞ্চার হচ্ছে। দিশাহীন শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের কিছু অংশের রুটিরুজির সংস্থান হবে।' হলদিয়া কিংবা নন্দীগ্রাম এখন চায়ের দোকান থেকে বাসস্ট্যান্ড সর্বত্র এই বিষয় নিয়ে আলোচনা। চলতি মাসেই নন্দীগ্রামে রোজগার মেলা হবে। সেই রোজগার মেলায় নন্দীগ্রাম বিধানসভার অধীন ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। বিশেষ করে আইটিআই, ভোকেশনাল, পলিটেকনিক, উৎকর্ষবাংলায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, নার্সিং ও স্নাতকদের হলদিয়ার বিভিন্ন শিল্পসংস্থায় নিয়োগ করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্ট এইচডিএ অফিসে অন্তত ২৫টি শিল্পসংস্থার প্রতিনিধির নিয়ে মিটিংয়ে বসেছিলেন জেলা শাসক। তারপর ওইদিন অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) সমরজিৎ চক্রবর্তী ৪০টি শিল্পসংস্থায় চিঠি পাঠিয়ে শূন্যপদের তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দেন। হলদিয়ার শিল্পসংস্থায় কেন শুধু নন্দীগ্রামের যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ দেওয়া হবে তানিয়ে আপাতত তোলপাড় নেট জগত। গত চার-পাঁচদিন ধরে এনিয়ে তরজা অব্যাহত। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নন্দীগ্রাম-১ ও ২ব্লকে মাইকিং করার কথা। অফলাইন ও অনলাইনে চাকরি আবেদন করার ডাক দিয়ে এই মাইকিং হওয়ার কথা। সিপিএম, কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলিও নন্দীগ্রামকে এই প্রিভিলেজ দেওয়ার বিপক্ষে। এই পদক্ষেপ শুরু হলে হলদিয়া থেকে আন্দোলন শুরু হবে বলেও কেউ কেউ হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখছেন।তাই শেষমেশ কী হয় সেদিকেই প্রত্যেকের নজর।

No comments